সন্মান দিতে হবে সকল উদ্ভাবনী ও সকল সৃজনশীলতাকে।

Quota

ছেড়ে এসেছি স্কুল জীবন টাকে!
ছোট থেকেই ভেবে এসেছিলাম এস.এস.সি’র পর দুই মাস ছুটির সময়টুকু দেশের বিখ্যাত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু মনে পড়ে গেলো স্যারের কথাগুলো..! স্যার বলতেন, পরিশ্রম করো তাহলে ভালো ফল পাবে..যদিও স্যার লেখা-পড়াকে উদ্দেশ্য করে একথা বলতেন। স্যারের কথা টাকে আমি আমার মতো করে নিতে চাই। কারণ ভালো লাগার কাজ ব্যাতিত অন্য কাজে হাজারো পরিশ্রম করলে সফল হওয়া যায় না। পরিশ্রম শুধু লেখা-পড়া করাই না! ভেবে দেখুন আপনি কি ভালোবাসেন? আর পরিশ্রম করুন সেই কাজেই, যেই কাজের মাধ্যমে আপনি পৌছাতে পারবেন আপনার সাফল্যের শিখড়ে। সেটা হতে পারে লেখা-পড়া, খেলা-ধুলা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনতা বা অন্য কিছু।

তবে দুঃখের বিষয় এই যে, বাংলাদেশে লেখা-পড়া ছাড়া যতই সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনতা থাকুক না কেনো তার দাম নেই!
আপনারা কথাই-কথাই তো খুব বলেন,
সবাই তো এক নয়। তাহলে কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে এই দেশের ১৬-কোটি মানুষ ই লেখা-পড়াকে ভালোবাসে। একথা শুনার পর আপনার মনে আসতে পারে যে, লেখা-পড়া করা হয় শিক্ষা লাভের জন্য। আরে ভাই, শিক্ষার আসল অর্থ যেনে আসুন আগে। থাক ভাই আর যেতে হবে না, আমি সংক্ষেপে বলে দিই, “যা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিবর্তন সাধন করে তাই শিক্ষা”।
মূল বিষয় হলো, আমরা মনে করি লেখা-পড়া করে বি.সি.এস/পি.এইস.ডি করলেই বড় শিক্ষিত। আর অন্যদিকে কেউ হাড়ভাংগা পরিশ্রম করে বড় হলেও তাকে আমরা অশিক্ষিত বলি! যেমনঃ বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজ,আমরা তাকে অশিক্ষিত বলি। আরে ভাই, সে কম পরিশ্রম করেন নি, সে হাড়ভাংগা পরিশ্রম করে অর্জন করেছে ক্রিকেটের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা, সত্যিকার রুপে সে অনেক বড় শিক্ষিত এবং তার শিক্ষার বিভাগ হলো ক্রিকেট। এটা যদি শিক্ষা না হয় তাহলে আপনি ওর মতো হয়ে দেখান দেখি, হাড়ে হাড়ে টের পাবেন! আর ভালো লাগার কাজ কঠিন হলেও সেটাই আমরা হাজার বার করে থাকি এবং ধৈর্যের পরিক্ষা দিয়ে অবশেষে সফল হয়।

আসলে বদলাতে হবে আমাদের চিন্তাধারাকে। শুধু লেখা-পড়াকে নয়! সুযোগ দিতে হবে সকল সৃজনশীলদেরকে, সকল উদ্ভাবনীদেরকে, উৎসাহ দিতে হবে তাদের পছন্দের কাজে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, সন্মান দিতে হবে সকল সৃজনশীলতাকে ও সকল উদ্ভাবনীকে।

-মোহিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *