তরুণ গবেষক মোহিত হাসান, তার লেখা প্রতিটি লাইন ই যেনো সর্ণ টুকরো।

Research

জন্মের পর থেকে দেখা সেই টেবিলটির ড্রায়ার টা আজ বোধহয় কয়েক বছর পর খুলছি। খোলা মাত্রাই চলে গেলাম সেই ১৫সালের দিনগুলিতে। যখন ৳৯ টাকায় ৩২এমবি কার্ড মেয়াদ ছিলো ৩দিন। আর আমার নেটওয়ার্ক ছিলো ২জি, স্পিড কেমন ছিলো তা অবশ্য অনুধাবন করতে পারছেন। না ছিলো ভালো একটা ডিভাইস। তখন থেকে টানা দু’বছর মাত্র ২৫৬ এমবি র‍্যামের মোবাইল চালিয়েছি। তো কি করতাম আমি সেই পরিস্থিতিতে?

ওপেরা মিনি ইন্সটল করেছিলাম, সেখান থেকেই গুগল সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা তৈরি হয়েছিলো যে, এটি একটি ওয়েবসাইট যেখানে সবকিছু অনুসন্ধান করা যায়। আজ আমি বই পড়তে গিয়েও মনে হয় নির্দিষ্ট জিনিসটা অনুসন্ধান করি। কিন্তু তা তো সম্ভব না। তাহলে একবার অনুধাবন করুন আমি কত কত অনুসন্ধান করছি সেই থেকে যে, এখন তা বইয়ের মধ্যেও করতে যায়। এটা বলার কারণ মূলত, আমার ভালো লগতো যখন আমি অজানা অকল্পনীয় সব জিনিস সার্চ করে দেখতে পারতাম জানতে পারতাম শিখতে পারতাম।

আস্তে আস্তে অনেক কিছুর সাথেই পরিচয় গড়ে তুলি। তবে তার মধ্যে অন্যতম ছিলো একটি জিনিস যা সৃজনশীল হতে সহায়তা করেছে। সেই অন্যতম জিনিসের চেয়ে আজ প্রযুক্তি আরো এগিয়েছে তবে আজ এগোচ্ছে না তরুণেরা।

হঠাৎ দেশ সেরা প্রযুক্তি ব্লগের লেখক হয়ে যায়, তবে গত ১৯ সালে আমি সেখানে দেশ সেরা চ্যাম্প লেখকের এওয়ার্ড পাই। এসব না জানারই কথা। কেননা যে পারে সে চিল্লায় না, আর যে পারেনা তার চেল্লানোর শব্দ বেশি। এছাড়াও চায়নিজ কোম্পানি আলিবাবা, শাউমি সহ বেশ কিছু কোম্পানি থেকে এওয়ার্ডেড হয়।

আমার অনুসন্ধান কিন্তু থামেনি। আমি কখনো ভাবিনি আমি সফটওয়্যার ডেভালোপমেন্ট করবো, কখনো MDN এর মতো একটা আইটি কোম্পানি আমার ভাগ্যে হবে। সেগুলো বাদই দিলাম, আমি ভাবতাম জীবনে কখনো মাউস ই কন্ট্রোল করতে পারবো না। আর সেই আমি আজ মাউস কিবোর্ডে ঝড় তুলে ফেলি।

এত কিছু বলার মানে কি? আমি কি আমাকে তুলে ধরলাম? না! আমি আপনাদের এটা বোঝাতে চাই, আমি আপনাদের মতো এরকম 4জি বা ওইফাই সুযোগ পায়নি, না পেয়েছি একটা ভালো ডিভাইস। তারপরও আমার অনুসন্ধান চলেছে, আমি খুজেছি নতুন কিছু, চেয়েছি শিখতে, চেয়েছি শিখাতে। আর ইতিমধ্যে উপরোক্ত বিষয়গুলো সহ আরো হিডেন অর্জন আমার আছে।

হে এশিয়ান ইয়াং জেনারেশন এবার আপনি বলেন? আপনার হাতে এত দামি একটা ডিভাইস, এত দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক। আপনি কি করেন? কি অর্জন করলেন আপনি? বলতে পারেন লেখাপড়ায় ভালো। হ্যাঁ ভালো হন অন্য কিছু করার সক্ষমতা তো আর নাই, শেষে জ্যাক মা, মার্ক, স্টিভ দের মতো খারাপ ছাত্রদের কোম্পানিতে চাকরীর জন্য আবেদন করতে করতে হাত ব্যাথা হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, আমি অনেক কষ্ট করে ২জি তে মাত্র ৩২এমবি দিয়ে টানা ৩দিনে অনেক কিছু শিখতাম। আমি যদি তা না করতাম তাহলে আমার এতকিছু অর্জন হতো না, সাধারণদের মতোই থাকতাম। আলিবাবা বা শাউমি আমাকে ডেকে নিয়ে এওয়ার্ডেড করেনি, আমি আমার যোগ্যতায় সেই এওয়ার্ডেড ছিনিয়ে নিয়েছি। তাহলে এখানে আপনার কি বোঝা উচিৎ বলুন তো? এখানে আপনার বোঝা উচিত আপনাকে কেউ বড় করে দিতে পারবে না এমনকি নিজের বাপও না, যদিনা আপনি নিজ থেকে কোনো দক্ষতা অর্জন করে নিজেকে তৈরি না করেন। আবার আপনাকে বড় হওয়া থেকে আপনার বাপও ঠেকাতে পারবেনা যদি আপনি আপনার দক্ষতা ডেভালোপ করে নিজেকে যোগ্য করে তোলেন। তাই সময় নষ্ট না করে নিজেকে সঠিক পথে তৈরি করুন নইতো কেউ চাইলেও বড় করতে পারবেনা।

যেমনঃ মাটি আর সর্ণের মধ্যে পার্থক্য, কেউ চাইলেও মাটিকে সর্ণের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।

আর হ্যাঁ, টাকার নেশায় নয় নতুন কিছু শোখার নেশায় ছোটাছুটি করুন যতদিন আপনার বাপ আপনাকে খেতে দিচ্ছে। টাকার পিছি সকলকেই ছোটা লাগবে তবে বাপ যতদিন খেতে দিচ্ছে ততদিন নিজেকে ডেভালোপ করার সময়।

হয়তো লেখাগুলো সেভাবে সাজিয়ে লেখতে পারিনি তবুও চেষ্টা করেছি যা বোঝানোর হয়তো তা বুঝেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *